Image description

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানানোর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবকে তাদের "আদি দেশে ফেরত পাঠানো উচিত" বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রাম্পের ভাষণের সময় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান রাশিদা তালিব এবং সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইলহান ওমর ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে স্লোগান দেন।

বুধবার রাতে ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেন যে, এই দুই মুসলিম আইনপ্রণেতা "অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের" মতো আচরণ করেছেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। ট্রাম্প লিখেন, "গত রাতে অত্যন্ত মার্জিত স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে যখন আপনি স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চিৎকার করতে দেখবেন, তখন তাদের চোখগুলো পাগলের মতো রক্তবর্ণ ও বিস্ফারিত দেখাচ্ছিল। তারা উন্মাদ, মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অসুস্থ। সত্যি বলতে, তাদের মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত বলে মনে হয়।"

তিনি আরও বলেন, "যখন কেউ এমন আচরণ করতে পারে এবং আমরা জানি যে তারা অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ—যারা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর—তখন তাদের যত দ্রুত সম্ভব তাদের আদি স্থানে ফেরত পাঠানো উচিত।" ট্রাম্প যোগ করেন, "তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিই করতে পারে, কোনো উপকার করতে পারে না।" মঙ্গলবার ট্রাম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ ভাষণের সময় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি ছোট দল প্রতিবাদ জানায়, যার মধ্যে ওমর ও তালিব ছিলেন অন্যতম।

ভাষণে ট্রাম্প যখন আইনপ্রণেতাদের বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত "স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি" (যে শহরগুলো কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত রাখে) বন্ধ করে দেওয়া, তখন ওমর ও তালিব চিৎকার করে বলেন: "আপনি আমেরিকানদের হত্যা করেছেন!" পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওমর লিখেন: "আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিতে হয়েছে যে তার প্রশাসন আমার নির্বাচনী এলাকার দুই বাসিন্দাকে হত্যার জন্য দায়ী।"

ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন, যার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহর অন্তর্ভুক্ত। গত বছর ট্রাম্প সেখানে ব্যাপক অভিবাসন বিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আইস (ICE) ও কাস্টমস এজেন্টদের অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদ করার সময় ফেডারেল অফিসারদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন।

ওমর মিনেসোটার সোমালি আমেরিকান সম্প্রদায়ের সদস্য, যাদের ট্রাম্প বারবার সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেছেন। এর আগেও প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে তাদের "যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফিরে যাওয়া উচিত"। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী সদস্য রাশিদা তালিব পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন: "দুইজন মুসলিম নারী তাকে মুখের ওপর জবাব দিচ্ছে এবং ভুল শুধরে দিচ্ছে—এটা তিনি সহ্য করতে পারছেন না, তাই এখন আবোল-তাবোল বকছেন। #প্রেসিডেন্টমাজনুন।"

আরবি শব্দ 'মাজনুন'-এর অর্থ হলো জিনে ধরা, পাগল বা ধর্মান্ধ। ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে কেবল তালিব ও ওমরকেই লক্ষ্যবস্তু করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইডের কথা উল্লেখ করেননি, যিনি এনবিসি নিউজের তথ্যমতে প্রেসিডেন্টের ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

এছাড়া ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আল গ্রিনের কথাও ট্রাম্প উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের ভাষণের সময় "কৃষ্ণাঙ্গরা বানর নয়"—লেখা একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কারণে গ্রিনকে হাউস ফ্লোর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে নিয়ে একটি বর্ণবাদী ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যার প্রতিবাদেই গ্রিন ওই প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

সূত্র : আল জাজিরা