এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছেই। এ ঝড়ে এবার কাঁপছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মসনদ। এরই মধ্যে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। তবে স্টারমার পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে থাকা এক ব্যক্তিকে সরকারের অংশ করেছেন তিনি। এ নিয়ে স্টারমার ক্ষমাও চেয়েছেন।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগের আহ্বানে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্টারমার। সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত ব্রিটিশ সরকারের রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন লেবার পার্টির স্কটল্যান্ডের নেতা আনাস সারওয়ার।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারির জেরে চাপের মুখে স্টারমারের নিকটতম সহযোগী মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগের পর যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালানও পদ ছাড়েন। অ্যালান বলেন, তিনি ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের শীর্ষ কূটনৈতিক ভূমিকায় নিয়োগের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে লেবার পার্টির নেতা সারওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও দলের অভ্যন্তরে স্টারমারের সমর্থনও আছে। কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। গত সোমবার এক সভায় স্টারমার বলেন, ‘দেশ পরিবর্তনের সুযোগের জন্য এত কঠোর লড়াইয়ের পর আমি আমার ম্যান্ডেট ও দেশের প্রতি আমার দায়িত্ব থেকে সরে যেতে প্রস্তুত নই; অথবা অন্যদের মতো আমাদের বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত করতে প্রস্তুত নই।’ তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য ব্রেক্সিট সমর্থক নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টিকে ক্ষমতা থেকে বিরত রাখা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার লড়াই, এটাই আমাদের সবার লড়াই এবং আমরা একসঙ্গে এ লড়াইয়ে আছি।’ এর আগে সারওয়ার স্কটল্যান্ডে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, তাঁকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্কটল্যান্ডকে সমর্থন ও যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে নেতা পরিবর্তনের আহ্বান জানাতে হচ্ছে।
পুলিশকে ‘সহযোগিতা’ করবেন ব্রিটিশ রাজা
এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর রাজা চার্লস প্রথমবারের মতো হস্তক্ষেপ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চার্লস বলেছেন, বাকিংহাম প্যালেস তাঁর ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিবেচনার সময় পুলিশকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রাজা কথায় ও অভূতপূর্ব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন– মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের আচরণের বিষয়ে যে অভিযোগগুলো ক্রমাগত প্রকাশিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে তাঁর গভীর উদ্বেগ।
কংগ্রেসে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি ম্যাক্সওয়েলের
আলজাজিরা জানায়, প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী ও সাবেক বান্ধবী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন– তিনি ক্ষমার বিনিময়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন। সোমবার হাউস ওভারসাইট কমিটির আইনপ্রণেতারা জানান, এপস্টেইনকে কিশোরী মেয়েদের যৌন নির্যাতনে সহায়তার জন্য ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ম্যাক্সওয়েল মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী প্রয়োগ করছেন। কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা স্পষ্টতই খুবই হতাশাজনক। আমাদের কাছে তার ও এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য অনেক প্রশ্ন ছিল। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সহষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কেও প্রশ্ন ছিল।’
টেক্সাসের একটি কারাগারে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা ম্যাক্সওয়েলকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল। তবে তার
আইনজীবীরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করলেই তিনি সাক্ষ্য দেবেন। কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু হলেও ম্যাক্সওয়েল এখনও সাজা ভোগ করছেন। তিনি ছিলেন এপস্টেইনের সব অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগী। এপস্টেইন নথিতে বিশ্বের রথী-মহারথীদের নাম উঠে এলেও অভিযোগ আছে– প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে অনেক কিছু এখনও প্রকাশ্যে আসেনি; এমন কিছু, যা হয়তো তাঁর প্রেসিডেন্ট পদকেই নাড়িয়ে দিতে পারে।
এপস্টেইনের সম্পদের উত্তরাধিকারী কে
এপস্টেইনের প্রায় ৬০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ ছিল। ২০১৯ সালে মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে একটি দলিলে স্বাক্ষর করে তিনি নিজের সম্পদের একটি বড় অংশ তার তৎকালীন প্রেমিকা কারিনা শুলিয়াকের নামে লিখে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশ করা এপস্টেইন নথিতে এই দলিল রয়েছে।