পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ শর্ত বাস্তবে মেনে নেওয়ার পরও ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে প্রকৃত কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়—এমন অভিযোগ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম বাসিরাত। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো নয়; বরং ইরানকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপমানিত করা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাসিরাত উল্লেখ করে, পারমাণবিক ইস্যু আসলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অজুহাত। কারণ বাস্তবতায় ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে ‘আলোচনা’ নয়, বরং ‘আত্মসমর্পণ’-এর ধারণাই বেশি স্পষ্ট। যেখানে ইরানকে জাতীয় স্বার্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থেকে সরে আসতে হবে, সামরিক শক্তি হ্রাস করতে হবে এবং আবারও পরনির্ভরশীল অবস্থার দিকে ফিরে যেতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে চায় না। তাদের মূল লক্ষ্য ইরানকে নিরস্ত্র করা, যাতে দেশটিকে দুর্বল ও বিভক্ত করা সহজ হয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস সম্প্রতি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইলে ইরানকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়ামের সব মজুদ অপসারণ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমায় নামিয়ে আনা, আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি বাহিনীর প্রতি সহায়তার কৌশলে পরিবর্তন আনা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা।
সব মিলিয়ে পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল