Image description

কলম্বিয়ার উত্তর সানতান্দার প্রদেশে একটি ছোট বিমান দুর্ঘটনায় আরোহী ১৫ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবারের এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে দেশটির জাতীয় কংগ্রেসের একজন সদস্যও ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, দুর্ঘটনাস্থল সনাক্ত করেন স্থানীয় কুরাসিকা সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকেই প্রথম খবর পায় প্রশাসন।

তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। কিন্তু পরে কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছেই নিশ্চিত হওয়া গেছে—বিমনে থাকা কারো বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল না।

এটি সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে কুকুতা শহর থেকে ওকানিয়া শহরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল। পাহাড়ঘেরা এই রুটে সাধারণত ৪০ মিনিট সময় লাগে।

সাতেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই বিমানের সঙ্গে এটিসির (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) শেষ যোগাযোগ হয়।

বিমানের দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই বিমানে ১৩ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের একজন ছিলেন ডিয়োজেনেস কুইনতেরো (বয়স ৩৬), যিনি কাতাতুম্বো এলাকা থেকে নির্বাচিত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য। তার সঙ্গে ছিলেন কার্লোস সালসেদো, যিনি একজন সমাজকর্মী ও কংগ্রেস সদস্য প্রার্থী।

ডিয়োজেনেস কুইনতেরো ছিলেন ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের একজন মানবাধিকারকর্মী। পেশায় আইনজীবী কুইনতেরো ২০২২ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন, ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত ১৬টি আসনের একটি থেকে। এই আসনগুলো বরাদ্দ হয়েছিল কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্বে।

তার রাজনৈতিক দল ‘ইউ পার্টি’ এক শোকবার্তায় বলেছে, ‘তিনি ছিলেন এলাকার প্রতি দায়বদ্ধ এক নেতা, যার ছিল সেবামুখী মনোভাব।’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক বার্তায় লেখেন, ‘এই মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে জানাই আন্তরিক সমবেদনা। তারা শান্তিতে থাকুক।’ 

সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট