Image description
 

ইরানে শাসন পরিবর্তন হলে দেশটির নেতৃত্ব কে নেবে—এ বিষয়ে কোনো সহজ বা নিশ্চিত উত্তর নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সিনেট কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এরপর কী ঘটবে, তা কেউ স্পষ্টভাবে বলতে পারে না।
রুবিও জানান, ইরানের পরিস্থিতি অন্য দেশের মতো সহজ নয়।

 

ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শাসন পরিবর্তনের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। তার ভাষায়, ‘এটি এমন খাবার নয় যা ওভেনে গরম করে খাওয়া যায়।’

এই বক্তব্য এমন এক সময় আসলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প খোলা রয়েছে। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক অভিযান চালালে তারা দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

 

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের সেনা, আঞ্চলিক ঘাঁটি ও মিত্রদের রক্ষা করতে পারে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরিস্থিতি হয়তো সেই পর্যায়ে যাবে না।

 

 এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, একটি বড় মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি তেহরানকে দ্রুত আলোচনায় ফিরতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে এবং আগের হামলার চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ইরান এই হুমকির কড়া সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি বলেন, হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তার মতে, চাপ সৃষ্টি করে আলোচনায় অগ্রগতি আনা যায় না।

বর্তমানে দুই দেশই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক। আর ইরান বলছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর অধিকার তাদের আছে এবং হুমকি ছাড়া আলোচনাই একমাত্র পথ।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।