Image description
 

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমরা জানতাম, পৃথিবীর ঋতুগুলো একটি নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে চলে। শীতের পর বসন্ত আসে, তারপর তপ্ত গ্রীষ্ম আসার এই চক্র ছিল সুশৃঙ্খল আর অনুমেয়। গত দুই দশকের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এক আশঙ্কাজনক খবর দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পৃথিবীর এই চিরাচরিত ঋতুচক্রের ছন্দ ভেঙে গেছে। পৃথিবী এখন আর একক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন টাইম জোনে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর ঋতুচক্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় অনেক প্রতিবেশী অঞ্চলের ঋতু এখন আর একসঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘সিজনাল অ্যাসিনক্রোনি’।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং বাস্তুসংস্থানবিদ ড্রু তেরাসাকি হার্ট বলেন, ‘আমরা সাধারণত ভাবি ঋতু পুরো ভূখণ্ডজুড়ে একসঙ্গে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এখন আমরা দেখছি, মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানে থাকা দুটি ভিন্ন বাস্তুসংস্থান বছরের সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ে অবস্থান করছে। এর ফলে কোথাও গাছপালা সময়ের অনেক আগেই বেড়ে উঠছে, আবার কোথাও ঋতু আসার ক্ষেত্রে অনেক দেরি হচ্ছে। ঋতুচক্রের এই বিশৃঙ্খলার প্রথম ধাক্কাটি আসছে কৃষি খাতে। চাষাবাদ মূলত বৃষ্টি, তুষারপাত এবং তাপমাত্রার একটি নির্দিষ্ট চক্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই সূচক যখন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন চাষের ক্যালেন্ডারও অকেজো হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞানীরা কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের উদাহরণ দিয়েছেন। সেখানে পাহাড়ের দুই পাশে অবস্থিত খামারগুলোর ফসল কাটার সময় এখন এতটাই আলাদা মনে হয় তারা পৃথিবীর দুই বিপরীত গোলার্ধে অবস্থিত। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে শস্য উৎপাদন, ফলের বাগান এবং আঙুর চাষের ক্ষেত্রেও। ঋতুচক্রের পরিবর্তন শুধু গাছপালার বৃদ্ধি নয়, বরং পৃথিবীর জলচক্রকেও নিয়ন্ত্রণ করে। স্যাটেলাইটের ধারণ করা তথ্য অনুযায়ী, অনেক অঞ্চলে পাহাড়ের বরফ সময়ের আগেই গলে যাচ্ছে। ফলে যখন ফসলের পানির প্রয়োজন হয়, নদীগুলো তার আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে একই অঞ্চলে একই বছরে খরা ও বন্যার মতো বিপরীতমুখী দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, যখন ঋতুগুলো তাঁদের ছন্দ হারায়, তখন প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে ফুল ফোটার আগেই মৌমাছি বা পতঙ্গরা বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন এলাকার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশেরও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া