মায়ানমারে এক মাসব্যাপী নির্বাচন রবিবার শেষ হয়েছে। সামরিক জান্তা পরিচালিত এই ভোটে সেনাবাহিনীপন্থী প্রভাবশালী দলটি বিপুল বিজয়ের পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার সময়কালই দীর্ঘ করবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির ইতিহাসে সামরিক শাসনের দীর্ঘ অধ্যায় রয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সে অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তখন গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করা হয়, দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং মায়ানমার গভীর মানবিক সংকটে পতিত হয়।
নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপটি সারা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সু চি রাজনীতি থেকে কার্যত বাদ পড়া এবং তার অত্যন্ত জনপ্রিয় দল বিলুপ্ত থাকায় গণতন্ত্রপন্থীরা বলছেন, এই ভোট সেনাবাহিনীর মিত্রদের পক্ষেই সাজানো।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বেসামরিক পোশাকে মান্দালয়ের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটাই জনগণের বেছে নেওয়া পথ। মায়ানমারের মানুষ যাকে সমর্থন করতে চায়, তাকে সমর্থন করতে পারে।’
বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়নি। আর জান্তা-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোটের আগে সময়টিতে জোরজবরদস্তি ও ভিন্নমত দমনের ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন।
মান্দালয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোরের দিকে ভোট দেন শিক্ষক জাও কো কো মিন্ট।