Image description

ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X' (সাবেক টুইটার) থেকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী বর্তমান ইরানি পতাকার ইমোজি সরিয়ে ফেলে সেখানে বিপ্লব-পূর্ববর্তী 'সিংহ ও সূর্য' খচিত পতাকা যুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের প্রধান শহরগুলো বিক্ষোভে উত্তাল। খবর আলজাজিরা।

গত ৪ জানুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক তাকে পরোক্ষভাবে ‘ভ্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর পরপরই শনিবার প্ল্যাটফর্মটিতে এই পরিবর্তন আনা হয়। মূলত বিপ্লব-পূর্ববর্তী এই পতাকাটি বর্তমান শাসনের বিরোধিতাকারী এবং রাজতন্ত্রপন্থীদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের পদক্ষেপের প্রভাব দ্বিমুখী। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, “রাষ্ট্রীয় নীতির ব্যর্থতা থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। অর্থনৈতিক সংকট এর শুরুটা করলেও এখন বিক্ষোভের লক্ষ্য সরাসরি রাষ্ট্রের শাসনকাঠামো।” অন্যদিকে, ইরান বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। 

এই পরিস্থিতিতে মাস্কের পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের কতটা উজ্জীবিত করবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, 'আমি সন্দেহ করি তিনি (মাস্ক) আদতে ইরানের পরোয়া করেন কিনা। তবে তিনি X-এর ট্রাফিক বাড়াতে চান এবং এটি তার একটি উপায় হতে পারে।'

যোগাযোগের এই অচলবস্থায় মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা 'স্টারলিংক' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যদিও ইরান সরকার বর্তমানে এর সিগন্যাল জ্যাম করার চেষ্টা করছে। মোর্তাজাভি জানান, 'আন্দোলনকারীদের সংগঠিত হওয়া এবং খবর ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই রাষ্ট্র ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। এটি আন্দোলনের গতি কমিয়ে দেওয়ার প্রথম লক্ষ্য।'

ইতিহাসবিদ রেজা এইচ আকবরি মনে করেন, পতাকার এই পরিবর্তন অনেকটা “একটি ভবনের দখল নিয়ে পুরোনো পতাকা নামিয়ে নতুন পতাকা তোলার ডিজিটাল সংস্করণ।” তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কতটা তা বলা কঠিন কারণ এই পতাকাটি মূলত নির্বাসিত শাহ-এর অনুসারীদের প্রতিনিধিত্ব করে।

আন্দোলনের এই পর্যায়ে নির্বাসিত শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি রাজপথ দখলের ডাক দিলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বারবারা স্লাভিনের মতে, 'ইরানের ভেতরেই অনেক যোগ্য মানুষ আছেন যারা বর্তমান শাসনের বিকল্প হতে পারেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের বেশিরভাগই এখন কারাগারে। অন্যদিকে শাহ-এর ছেলে আমেরিকায় প্রাসাদে আরামে বসবাস করছেন।'

এদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপে দ্বিধা করবে না। পরিশেষে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশের মাটিতে বসে করা এই প্রতীকী সমর্থনগুলো আলোচনার জন্ম দিলেও মুক্তির আসল লড়াই লড়তে হচ্ছে ইরানের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষকেই।