Image description
 

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় গ্রেপ্তার হয় দুই বিশিষ্ট ছাত্রকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম। বিনা বিচারে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন তারা। তারপরেও সোমবার তাদের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত জানান।

 

আদালত জানিয়েছে, একই মামলায় অভিযুক্ত সাতজনের জামিন আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে খালিদ ও ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অন্যদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় তাদের জামিন দেওয়া হয়নি। এসময় আদালত স্পষ্ট করেছে, তারা এক বছর পর পুনরায় জামিনের আবেদন করতে পারবেন।

 
 

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। ওই ঘটনার পর রাজধানীতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন—ইউএপিএ—এর আওতায় মামলা করা হয়। যার ফলে জামিন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযুক্তরা বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

 

একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ কর্মী—গলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, মোহাম্মদ সামির খান, শাদাব আহমেদ ও শিফা উর রেহমান—কে সোমবার জামিন দেওয়া হয়েছে।

 

উমর খালিদ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং শারজিল ইমাম গ্রেপ্তারের সময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল গবেষক ছিলেন। দুজনেরই বয়স ৩৭ বছর। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন আদালতে একাধিকবার তাদের জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে খালিদকে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

এই মামলাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২২ সালে সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারকসহ একদল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আরোপের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে দীর্ঘ বিচার-পূর্ব আটক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।