ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পরও বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম। ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর দেশটির বিশাল তেল মজুত কাজে লাগানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার প্রভাব মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনের শুরুর লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৬০ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম নেমে এসেছে ৫৬ দশমিক ০১ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় গিয়ে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ করবে।
অবশ্য এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো তেল কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের বিনিয়োগের কথা বলেনি। তবে শেভরনের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী আলি মোশিরি জানিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার তেল প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে সম্ভাব্য সম্পদ চিহ্নিত করেছে এবং বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় বৃহত্তম তেলের মজুত
ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের প্রায় এক শতাংশ জোগান দেয়। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে দেশটির উৎপাদন কমে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার হাতে রয়েছে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ মজুত।
বাজার বিশ্লেষক ক্যাথলিন ব্রুকস বলেন, তেলের দামের এই পতন স্বল্পমেয়াদি হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ভেনেজুয়েলার তেল বিশ্ববাজারে আসতে সময় লাগবে।
তার মতে, পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, নতুন কূপ খনন এবং ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য নতুন শোধনাগার নির্মাণ—এসব কাজে ব্যাপক সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ভেনেজুয়েলার উৎপাদন পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনাবলির পর তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস তাদের উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। রাশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটভুক্ত দেশগুলো এপ্রিলের আগে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার অবস্থানেই রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান