Image description
 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে ইরানে। মাদুরোকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ইয়াইর লাপিদ তেহরানকে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

সোমবার (০৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দেন। এরপরই লাপিদ এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের উত্তেজনার পটভূমি ভিন্ন, তবুও বিশ্লেষকদের মতে মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

 
 

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, এই নতুন ধরনের আইনহীনতা বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করছে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ‘সার্জিক্যাল’ উপায়ে সরকার পরিবর্তনের ধারণায় ট্রাম্প আগ্রহী হয়ে উঠলে বা ইসরায়েলকে এ ধরনের পদক্ষেপের অনুমোদন দিলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের পক্ষে থাকা শক্তিগুলো আরও উৎসাহ পাবে।

 

আবদি বলেন, মাদুরোর অপসারণ ইরানকে এমন কিছু করতে প্ররোচিত করতে পারে, যা সামরিক সংঘাত ডেকে আনবে—যেমন নিজস্ব সামরিক প্রতিরোধ শক্তি জোরদার করা বা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আগেই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোরতাজাভি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিরই প্রতিফলন, যা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে তুলেছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, তেহরান থেকে যা দেখা ও শোনা যাচ্ছে, তাতে বোঝা যায় তারা এমন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়, যেখানে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে কূটনীতির সুযোগ খুবই কম, যা সংঘাতের পথ খুলে দিচ্ছে। বর্তমানে ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে।

ইরান-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনতে অভিযানটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে চলা কঠোর বক্তব্যের পর চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদকচক্র পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন এবং ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা বারবার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে অভিযোগ করেছেন, ভেনেজুয়েলা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে পশ্চিম গোলার্ধে ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

আল জাজিরা জানিয়েছেঠ, ইরান ও ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়। মাদুরোর পতনে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন ও লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর ইরানের মিত্রজোট আরও সংকুচিত হতে পারে।

ইরান সরকার দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতিসংঘের সদস্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

ট্রাম্পের হুমকি

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে, তাহলে আবার হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, ইরান যদি আবার শক্তি সঞ্চয় করতে চায়, আমরা তাদের ধ্বংস করে দেব।

এর আগে গত জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, একাধিক পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে। যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দিয়ে ইরানের ৩টি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়েছে, যদিও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে। পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট নিক্ষেপ করে, যার অনেকগুলো দেশটির বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানে।