Image description

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তার দল রিপাবলিকান পার্টি। ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন মার্কিন নাগরিকেরা। এই ফলকে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের প্রতি অন্যতম বড় প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের পর ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার কথা বললেও সামনে তার জন্য অপেক্ষা করছে কংগ্রেসের তদন্ত, বাজেট ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিরোধ এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের প্রশ্নে সাংবিধানিক লড়াই। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান শিবিরেও শুরু হতে পারে নেতৃত্বের হিসাব-নিকাশ।

 

নির্বাচনের ফল এতটাই বড় ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গেছে যে, ট্রাম্পের নির্বাচনে হারলেই কারচুপির অভিযোগ তোলার প্রবণতাও এবার কাজে আসেনি। ফল চ্যালেঞ্জ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়ার আশঙ্কা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেখা যায়নি। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর যে বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের কারণে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার কোনো উদ্যোগও কার্যকর হওয়ার সুযোগ পায়নি।

 

ট্রাম্পের দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা চাপের মুখে পড়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের ফলের পর তার রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশটির সাংবিধানিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের বক্তব্যেও ছিল ভিন্ন সুর। গণমাধ্যমে ফোন করে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তাকে অনেকটা সংযত মনে হয়েছে। নির্বাচনের এক দিন আগে নিজেকে ‘মি. ভেটো’ বলে পরিচয় দেওয়া ট্রাম্প এবার ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলেছেন। অথচ সম্প্রতি এই দলকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

 

পলিটিকোর নির্বাচনি রাতের সরাসরি সম্প্রচারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব, যাতে আমাদের দেশের জন্য সবকিছু ভালোভাবে এগিয়ে যায়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

 

তবে পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিতে চাননি ট্রাম্প। তার দাবি, রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের কারণেই হেরেছেন। মূলত তারা তার মতো ছিলেন না বলেই এমন ফল হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলের পর এই যুক্তি দিয়ে বাস্তবতা আড়াল করা কঠিন।

 

ট্রাম্প নিজেই এবারের নির্বাচনকে নিজের জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে পরিণত করেছিলেন। অথচ তার প্রতি জনসমর্থন ছিল বেশ দুর্বল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার সম্পর্কও ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো পরিবার চাপে পড়েছে।

 

ট্রাম্পের আত্মকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান শেষ পর্যন্ত বড় ভুল হিসেবেই দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি যে ‘স্বর্ণযুগে’ নিয়ে যাচ্ছেন, সে দাবিও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলেনি। একইভাবে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের আসন কমানোর যে চেষ্টা হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হয়নি। বরং ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তার কারণে রিপাবলিকান প্রার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের দায় ট্রাম্পের

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছিলেন ট্রাম্প। বিরতি দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হন তিনি। কিন্তু দুই বছর পর তার নিজের আদর্শ ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রিপাবলিকান পার্টির এমন বিপর্যয় তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ধস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করার পর প্রথমে ধীরে ধীরে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র স্পষ্ট হয়। পরে সেই চিত্র বড় জয়ের রূপ নেয়। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি এমন কিছু জায়গায় সিনেটে জয় পেয়েছে দলটি, যেখানে তাদের সাফল্য আগে কল্পনাও করা কঠিন ছিল। এর মধ্যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

 

ট্রাম্পের পছন্দ করে এগিয়ে দেওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থীও বড় ব্যবধানে হেরেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সিনেটর ডারলিন গ্রাহাম। গ্রাহাম তার প্রয়াত ভাইয়ের ছেড়ে যাওয়া আসন ধরে রাখতে পারেননি।

 

এ ছাড়া রিপাবলিকান দলের দুই সিনেটর জোনি আর্নস্ট ও থম টিলিসকে ট্রাম্পপন্থি মতাদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হওয়ায় রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তারা নির্বাচনে থাকলে আইওয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের জয় ধরে রাখার সম্ভাবনা থাকতে পারত।

 

সিএনএনের জনমত জরিপের তথ্যেও ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ, তার অর্থনৈতিক নীতি, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং নেতৃত্বের বিরোধিতা করছেন।

 

ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রজন্মের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, রিপাবলিকান দলের সাধারণ ভোটারদের মনোভাব বুঝতে ট্রাম্পের অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রচলিত ধারার কোনো রিপাবলিকান নেতার পক্ষে যেসব নির্বাচনি সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়, ট্রাম্প তা করতে পারেন।

 

তার এই রাজনৈতিক দক্ষতার কিছু ভিত্তি অবশ্যই ছিল। কিন্তু প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ১০ বছর পর মঙ্গলবারের নির্বাচনে সেই প্রভাব আর দেখা যায়নি। বরং টানা এক মাস ধরে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে শক্তিশালী এলাকাগুলোতে প্রার্থীদের জেতানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

 

টেক্সাসে ট্রাম্পবিরোধী জনমতের বড় প্রকাশ

ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরাজয়ের ব্যাপকতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে টেক্সাসে। প্রায় চার দশক পর এই অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটের একটি আসন পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জয়ী হয়েছেন জেমস টালারিকো। শুধু তা-ই নয়, রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও হেরেছেন। চতুর্থ মেয়াদে গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে তাকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনজীবী জিনা হিনোজোসা।

 

ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানকে অনেক সমালোচক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবে দেখে থাকেন। ট্রাম্পের বর্ণবাদী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংস্কৃতির প্রতি ইঙ্গিত এবং সংখ্যালঘু নারী ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে।

 

তবে এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র আবারও সামনে এসেছে। ট্রাম্পের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জনের পথ তৈরি হয়েছে।

 

জিনা হিনোজোসা হবেন টেক্সাসের প্রথম লাতিনা গভর্নর। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য পেতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স বটমসকে। নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মোকাবিলা করে সিনেটে জয় পেয়েছেন আবদুলিআল-সাইয়েদ। তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

সামনে ট্রাম্পের জন্য কী অপেক্ষা করছে

নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস আগামী বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করতে পারে। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হোয়াইট হাউসের দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে ধারাবাহিক তদন্ত শুরু হতে পারে।

 

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা এসেছে। ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারপতির পদ শূন্য হলে নতুন নিয়োগ আটকে দিতে পারবে তারা। একইভাবে দলের বিরোধিতা রয়েছে—এমন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ অনুমোদন না করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের হাতে।

 

ফলে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সময় সামনে আসছে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প সহজে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন, এমনটা মনে করা হচ্ছে না। মেয়াদের শেষ দিকে থাকা একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে অস্থির ও বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প সহজে সেই বাস্তবতা মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

বাজেট এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শেষ করতে না পারলে এ নিয়ে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

 

এ ছাড়া নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারেন। দেশের ভেতরে ক্ষমতা সীমিত হয়ে আসার প্রতিক্রিয়ায় বিদেশের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ও অনিয়মিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা

মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী বাছাই নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য পেয়েছে। ফলে ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

 

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখন বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন। এত দিন তাকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর তাকে ট্রাম্পের কাছ থেকে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান আলাদা করার চেষ্টা করতে হতে পারে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের বাইরে গিয়ে পুরোনো রিপাবলিকানদের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়তে পারবেন? একসময় তিনি নিজেও প্রচলিত ধারার রিপাবলিকান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

 

অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের মতো নেতারা ভাবতে পারেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন কোনো প্রার্থী ২০২৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

 

তবে ডেমোক্র্যাটদের সামনেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনের জয় উদ্‌যাপন শেষ হলে তাদের বাস্তব রাজনৈতিক দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতার কারণে ভোটারদের প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

 

বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপ থাকবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ট্রাম্প—দুজনই এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরাও যদি এ সমস্যা সমাধান করতে না পারেন, তাহলে দুই বছর পর পরবর্তী নির্বাচনে তাঁদেরও বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক জয় চিরস্থায়ী নয়। কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থায়ী নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, কোনো প্রেসিডেন্টই অজেয় নন। তিনি নিজেকে যত ক্ষমতাধরই মনে করুন না কেন, জনগণের রায়ের মুখে তাঁকেও পরাজয় মেনে নিতে হয়।