Image description

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সহায়তা বা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে একটি স্কুলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হামলা চালানো হয়। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির ক্ষীণ আশাও ভেস্তে গেছে বলে মনে করছে কিয়েভ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রাশিয়ার দখল করা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই বিরল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। মঙ্গলবার শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি রবিবার শেষ হয়। এ সময়ে কোনও পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেনি।

তবে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খেরসন-সংলগ্ন ঝাপোরিজিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে দফায় দফায় হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন। নিহতদের কয়েকজন স্থানীয় একটি স্কুলে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়েছিলেন। এছাড়াও নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে টেলিগ্রামে জানান তিনি। 

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশ করা ভিডিওতে স্কুল ভবনটিকে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। সেখানে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতাও দেখা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রতি সোমবার সেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো’।

তিনি বলেন, মানুষ সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাশিয়া প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এরপর আবারও হামলা চালানো হয়। এবার আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে আরও বোমা ফেলা হয়।

জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, নিহত দুই উদ্ধারকর্মীর নাম ডেনিস কোনোভালেঙ্কো ও ওলেক্সি সুশেভস্কি। দুজনেরই বয়স ৪৪ বছর। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘প্রতিদিন তারা মানুষের সহায়তায় বের হতেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করতেন এবং অন্যদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতেন’।

ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির পর শান্তির পথে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, এমন একটি মুহূর্ত এসেছিল, যখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেখাতে পারত যেখানে শান্তির পথে অগ্রগতি সম্ভব। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে। এর জবাব দিতে হবে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে রাশিয়া। এ অভিযোগ অস্বীকার করেনি ক্রেমলিন। সোমবার সাংবাদিকদের রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক চর্চা’।

তার অভিযোগ, অতীতেও যুদ্ধের বিরতিগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। পেসকভ আরও বলেন, ওলেশকির মানবিক সহায়তা অভিযানকে সফল হিসেবে দেখছে মস্কো।