হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এ কথা জানান।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, কাতার, পাকিস্তান ও ইরাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাবের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেই তেহরান।
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান সাত দিনের এই প্রস্তাব দেয়। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে। তবে যেসব বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এ বিষয়ে রেজায়ির বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস।
ইরানের এ প্রস্তাবের ভিত্তি হলো গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। তেহরান এখন ওই সমঝোতার আওতায় আরও বিস্তৃত চুক্তি করতে চাইছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আগের আলোচনায় ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইরান এখনো নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা কিংবা মজুত করা উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ