Image description

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী।

ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। তাই ইরাকের পর পুরো অঞ্চল থেকেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা উচিত বলে তারা মনে করে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের হাতেই দিতে হবে।

আইআরজিসির দাবি, দুই দশকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং তাদের মতে, এই উপস্থিতিই নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে আইআরজিসি।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষের নিজেদের হিসাব অনুযায়ীও ইরাকে দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে আইআরজিসি বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইআরজিসির ভাষ্য, দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপের পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এমন এক সময়ে প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যখন দেশটির জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

তবে বিবৃতিতে উল্লিখিত হতাহতের সংখ্যা ও আর্থিক ব্যয়ের দাবিগুলো আইআরজিসির বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল-জাজিরা