পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিউড়ির একটি দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডল উপস্থিত থাকা অবস্থায় কয়েকজন যুবক ঢুকে তাকে হেনস্তা করেন এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এ সময় তিন যুবক হাতে লাঠি নিয়ে সেখানে ঢোকেন। তারা অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা টেবিলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
ওই যুবকেরা অনুব্রতকে গত ১৫ বছর ধরে বীরভূমের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তাকে ‘গরু চোর’ বলেও কটাক্ষ করা হয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুব্রত মণ্ডল তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে যুবকেরা তার কথা শুনতে রাজি হননি। বরং তাকে আর কথা না বলার জন্য হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এরপর টেবিলে জোরে আঘাত করা হলে সেটির কাচ ভেঙে ছিটকে অনুব্রত মণ্ডলের গায়ে লাগে।
এরপর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। কাঠের লাঠি দিয়ে কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রেও আঘাত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিন যুবককে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। তাদের পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ঘটনার পর বীরভূমজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিজেপির সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিউড়িতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনা না ঘটলেই ভালো হতো। তার দাবি, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে বিজেপির কোনো নেতা-কর্মীর যোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
উদয়শঙ্কর আরও বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম অনুব্রত মণ্ডল সিউড়ির ওই দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সিউড়ির বাসিন্দাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনায়।
একসময় বীরভূমের তৃণমূল রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের ব্যাপক প্রভাব ছিল। জেলার বিভিন্ন নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যও বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। ‘গুড় বাতাসা’, ‘চড়াম চড়াম’ এবং ‘খেলা হবে’-এর মতো মন্তব্যের কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি পান।
তবে সিউড়ির সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।