কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এসব বহিষ্কার কার্যকর করা হয়। জাতীয়তা অনুযায়ী বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত।
দেশটির ৪ হাজার ২২৭ জন নাগরিককে এ সময়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো—২ হাজার ২৮২ জন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০, হাইতির ৫৩৫ এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী সপ্তম সর্বোচ্চ।সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের প্রধান কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম না মানায় ১ হাজার ৭৯৪ জন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জন, অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের ধরন অনুযায়ী, মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০, মার্চে ১ হাজার ৪৩২, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯, জুনে ১ হাজার ৭৯১, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিবিএসএর পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশির বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন।
বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ এবং মেক্সিকোর নাগরিক ৬ হাজার ১০২ জন।
সিবিএসএ জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা সংস্থাটির দায়িত্ব। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।
শীর্ষনিউজ