Image description

উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দীকে গোপনে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য ফাঁস করার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিউল। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা চুক্তি লঙ্ঘন করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করে ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস। 

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের জনসংযোগ বিভাগের সিনিয়র সেক্রেপারি সিওং ঘি-হং এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউক্রেনের একতরফা তথ্য প্রকাশ ও পরবর্তীতে কোনো গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে তাদের মিথ্যা ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস।’ প্রয়োজন সাপেক্ষে এ বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। 

 

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করেছে।

কিয়েভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছিল। ২০২৪ সালে মস্কোর পক্ষে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর এরাই ছিল প্রথম জীবিত বন্দি হওয়া উত্তর কোরীয় সেনা। 

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, বন্দীদের নিরাপত্তা ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গোপন রাখতে চেয়েছিল সিউল। ইউক্রেনও বিভিন্ন চ্যানেলে এই বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিয়েভের যুক্তি ছিল, তথ্য প্রকাশ পেলে দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে যে, ইউক্রেন হয়তো রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বন্দীদের সঙ্গে এই সৈন্যদের বিনিময়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে। 

কিন্তু পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জেলেনস্কি তা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে গোপনীয়তা চুক্তি অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ সিউলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিইং জানান, সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করে এই বিষয় গোপন রাখাই সব দিক থেকে সমীচীন ছিল। চুক্তি ভঙ্গ করে এই তথ্য ফাঁস করা ‍দুই দেশের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। 

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই দাবির জবাবে জেলেনস্কির সহকারী দিমিত্রো লিটভিন সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেন একটি ‘উন্মুক্ত দেশ’ এবং বন্দীদের গোপনে হস্তান্তর করাটা অদ্ভুত হতো। তিনি বলেন, “দীর্ঘ  ও বিস্তারিত এই ঘটনার কেবল সত্য তথ্যটিই প্রকাশ করা হয়েছে যে, তাদের কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই যুদ্ধবন্দী হস্তান্তরের এই ঘটনা সামনে এলো। 

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে, যার বড় একটি অংশ কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। এই লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৬ হাজার সেনা নিহত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা