শব্দের গতির দ্বিগুণ বেগে উড়তে সক্ষম সুপারসনিক যাত্রীবিমান তৈরির পথে এগোচ্ছে চীন। দেশটির পরীক্ষামূলক বিমান ‘টিএমএস-১০’ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারবে। বছরের শেষ নাগাদ এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হতে পারে।
চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, টিএমএস-১০ বর্তমানে চূড়ান্ত সংযোজনের পর্যায়ে রয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক বিমান হলেও ভবিষ্যতে ১০ থেকে ১৫ যাত্রী বহনে সক্ষম সুপারসনিক বিমানের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো এমন একটি যাত্রীবিমান তৈরি করা, যাতে সাংহাই থেকে বেইজিং যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। বর্তমানে এই পথ বিমানে পাড়ি দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
টিএমএস-১০ তৈরি করছে চীনের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান তিয়ানমুশান ল্যাবরেটরি ও বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়। শব্দের গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে চলার সময় সৃষ্ট তীব্র শব্দ বা সনিক বুম কমানোও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
বিমানটি শুধু শব্দ কমানোর চেষ্টা করছে না বরং শব্দ সৃষ্টিকারী শক ওয়েভগুলোকে ছড়িয়ে দিয়ে দুর্বল করার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিমানের সামনের অংশ ও ডানার চারপাশের শক ওয়েভ যাতে একত্রিত হয়ে শক্তিশালী শব্দতরঙ্গ তৈরি করতে না পারে, সে অনুযায়ী নকশা করা হয়েছে। পেছনের অংশও এসব তরঙ্গকে পুনর্বণ্টন ও দুর্বল করতে সহায়তা করবে।
মাক ২ গতিতে উড়লে টিএমএস-১০ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবে। আবার শব্দের চেয়ে কম গতিতে মাক ০.৯৫ বেগেও উড়তে পারবে, তখন ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ১৭৩ কিলোমিটার গতিতে চলবে বিমানটি।
প্রথম উড্ডয়নের আগে বিমানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি যাচাই করা হবে। এর অ্যারোডাইনামিক উইন্ড-টানেল পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফ্লাইট-কন্ট্রোল নকশা ও বিমান কাঠামো তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। গত বছর টিএমএস-১০ এর ছোট একটি সংস্করণ মাক ০.২-এর কম গতিতে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও সুপারসনিক বিমান তৈরিতে কাজ করছে। তাদের ‘এক্স-৫৯’ বিমান মাক ১.৪ গতিতে উড়তে পারে এবং ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করেছে। এর লক্ষ্য তীব্র সনিক বুমকে তুলনামূলক মৃদু শব্দে পরিণত করা। চীনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় যাত্রীবিমানে প্রয়োগ করতে গেলে উচ্চ নির্মাণ ব্যয় ও নকশাগত জটিলতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ