Image description
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একজন উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে।
 
ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বলেন, ‘সংঘাত যখন পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আরও যুদ্ধের জবাবে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে ভারত মহাসাগর এবং সম্ভবত এরও বাইরে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’
 
সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা ইয়েমেনের হুথিরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে এশিয়ার সঙ্গে সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপকে যুক্ত করা কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
 
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িত থাকার কথা ইরান অস্বীকার করে।
 
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর সূত্রপাত করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতেও নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে।
 
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
 
ইরানের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
 
তবে বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তায় এই প্রথম ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কোনো উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে ভারত মহাসাগরের কথা উল্লেখ করলেন। ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
 
সংঘাতের অবসান ঘটানোর আরও একটি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন।
 
যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির অর্থনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেয়া।
 
মঙ্গলবার এএফপিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবও ইয়েমেনের যুদ্ধ শেষ করার কথা উল্লেখ করেন।
 
মোহেব বলেন, জুনের একটি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইরান তার শর্ত আরও কঠোর করেছে। তিনি বলেন, এখন ওয়াশিংটনের সামনে ইরানের দাবি মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
 
এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল। সেখানে সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনোর বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে চুক্তিটি ভেঙে যায় এবং দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
 
তেহরানে দেয়া এক বিরল একান্ত সাক্ষাৎকারে মোহেব এএফপিকে বলেন, ‘তারা চুক্তি ভেঙেছে এবং আরেকটি জঘন্য কাজ করেছে। তাই আমরা আমাদের শর্ত কঠোর করেছি।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার বর্তমান অবস্থান অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা নিজেদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলবে।
 
‘আমরা তাদের খেলার পুতুল নই এবং তারা যখন খুশি একতরফাভাবে স্বাক্ষর করা কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করতে পারে না।’
 
সাক্ষাৎকারে মোহেব প্রায় সাত মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি এবং বর্তমানে আমরা সেই জয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ ক্ষমতায় রূপ দিচ্ছি।’
 
জুনের সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের তেলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
তবে সমঝোতাটি ভেঙে যাওয়ার পর মোহেব বলেন, ইরান তার দাবিগুলো আরও কঠোর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা শুরুর আগেই ধাপে ধাপে নয়, বরং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের পুরো ২৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছেড়ে দেয়ার দাবি।
 
সূত্র: ডেইলি সাবাহ