ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হোসেইন পেদারান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে সামরিক স্থাপনার তথ্য দিয়েছিলেন হোসেইন পেদারান।
গুপ্তচরবৃত্তি ও ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই সাজা বহাল রাখেন। এরপর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইসফাহানের স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাগুলোর তথ্য মোসাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন পেদারান। এসব তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে তিনি অর্থ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে ইরানের বিচার বিভাগ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ আবার নতুন করে শুরুর পর ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে এ যুদ্ধ শুরু হয়।
এরপর দেশটিতে কার্যকর হওয়া অনেক মৃত্যুদণ্ডই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগেও কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইসিপিএম) জানিয়েছে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এক বছরে এটাই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় ইরানের চেয়ে এগিয়ে আছে শুধু চীন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল