Image description

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থানের সময় সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন বিধি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বিধিটি কার্যকর হওয়ার মাত্র এক দিন আগে আদালতের এ আদেশ এলো। ফলে আপাতত প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা বহাল থাকছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের মার্কিন জেলা বিচারক এফ. ডেনিস সেলর এ আদেশ দেন। শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের জোটের করা মামলায় তিনি এ রায় দেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন বিধিটি কার্যকর করার এক দিন আগে আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়।

বিচারক সেলর বলেন, ডিএইচএস ‘অত্যন্ত দুর্বল’ যুক্তির ভিত্তিতে নতুন নীতিটি গ্রহণ করেছে। নতুন বিধি চালুর পক্ষে সংস্থাটি জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। তবে বিচারকের মতে, নীতি পরিবর্তন নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে কম ক্ষতিকর বিকল্প নিয়ে ভাবার যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, ডিএইচএস সেটিও পালন করেনি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বিচারক সেলরের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা বা আইসিইকে ‘আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার এই লাগামহীন অপব্যবহার চলতে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্টুডেন্ট ভিসায় এসে প্রতি সেমিস্টারে একটি করে কোর্স করুন, আর দশকের পর দশক এখানে থেকে যান।’

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর তার রায়ে বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা বৈধ শিক্ষার্থী মর্যাদা বহাল থাকার সময়ের ভিত্তিতে ভিসা দিয়ে আসছে। নতুন বিধিটি দীর্ঘদিনের সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছিল।

বিচারক বলেন, দীর্ঘদিনের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক আসার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের কাজের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী গবেষণা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছে।

সেলর বলেন, ডিএইচএস গত জুলাইয়ে যে বিধি গ্রহণ করেছে, তার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের ওই ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যেত।

নতুন বিধি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের জন্য জে ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছর নির্ধারণ করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য আই ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিন করা হতো। বর্তমানে এই ভিসার মাধ্যমে সাংবাদিকেরা কয়েক বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসায় অবস্থান করছেন। এছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জে ভিসায় রয়েছেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি।

বিচারক সেলর বলেন, নতুন বিধি কার্যকর হলে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কয়েক শ কোটি ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে, তা বিপর্যয়কর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মামলার বাদীপক্ষের অন্যতম সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লুম বলেন, বিচারকের এই রায়ে স্বীকার করা হয়েছে যে নতুন বিধি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ত।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি চলমান থাকলেও এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দীর্ঘদিনের সেই ব্যবস্থাকে বহাল রাখছে, যার মাধ্যমে আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং আমাদের দেশ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবীদের আকৃষ্ট করা, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ পায়।’