Image description

আওয়ামীপন্থী প্রোপাগাণ্ডা ওয়েবসাইট ‘ডেইলি আজকের কণ্ঠ’র ছড়ানো ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ পরিচালিত ফেসবুক পেজ Voice Bangla থেকে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ৬টি কনটেন্ট ও ৩টি বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীপন্থী প্রোপাগান্ডা ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট 'ডেইলি আজকের কণ্ঠ' থেকে ‘মানিলন্ডারিং’ বোমা ফাটল: ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ মাহমুদ! শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রথম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।

 

ওই প্রতিবেদনে “নামহীন গোয়েন্দা সূত্র এবং কথিত "আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের" এর 'নথিপত্রের' বরাতে জানানো হয়েছিল যে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২০০০ কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১৫০০ কোটি টাকা পাচার করে বিভিন্ন সম্পদ কিনেছেন।কথিত রিপোর্টটিতে এসব দাবির পক্ষে কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো একটি সূত্রের নামও উল্লেখ করা হয়নি এসব দাবি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। উল্টো "আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের" নামে যে প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে এই নামে কোন সংস্থার নাম অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

 

১৪ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট এর “আসিফের বিরুদ্ধে ৭ মাস আগে আ.লীগের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা রিপোর্টের অভিযোগ এখন দুদকে” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে।

 

এছাড়া ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের “আসিফ মাহমুদের ‘১১ হাজার কোটি’: সাত মাস আগে এআই প্রতিবেদনে, পরে দুদকের অভিযোগে একই হিসাব” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আওয়ামী প্রোপাগাণ্ডার বিষয়টি উঠে আসে।

 

রিউমর স্ক্যানার বলছে, “দীর্ঘ এই প্রতিবেদনের কোনো অংশে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করে বক্তব্য, প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। চ্যাটজিপিটি আলোচিত প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে জানায়, এটিতে এআই-জেনারেটেড বা এআই-সহায়তায় লেখা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। কারণ লেখাটিতে অত্যন্ত গুরুতর ও নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলেও অধিকাংশ তথ্যের উৎস অস্পষ্ট—বারবার “সূত্রগুলোর দাবি”, “সংশ্লিষ্টরা বলছেন” বা “অভিযোগ রয়েছে” বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো নথি, তদন্ত, ব্যক্তি বা যাচাইযোগ্য সূত্র নেই। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের অসংখ্য অভিযোগ, প্রকল্পের পরিসংখ্যান, অর্থপাচার, অফশোর কোম্পানি ও বিদেশে বিনিয়োগের মতো তথ্য একসঙ্গে সাজানো হয়েছে, যা এআই দিয়ে তৈরি অভিযোগভিত্তিক লেখার সাধারণ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে। একাধিক এআই টুলও এই লেখাকে এআই জেনারেটেড হিসেবে অভিহিত করেছে।”

 

এদিকে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, "বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে।"

দুদকের অভিযোগগুলোর সাথে আওয়ামী প্রোপাগাণ্ড ওয়েবসাইট 'ডেইলি আজকের কণ্ঠ' এর প্রতিবেদনের সাথে মিল রয়েছে।

 

অন্যদিকে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ পরিচালিত ফেসবুক পেজ Voice Bangla থেকে বেশ কয়েকটি কনটেন্ট ও বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। যেখানে এ সংক্রান্ত ৩টি ভিডিও কনটেন্ট ও ৬টি পোস্ট খুঁজে পেয়েছে বেঙ্গল লেন্স। এছাড়া ২টি কনটেন্ট আসিফ মাহমুদের বক্তব্যকে উদ্ধৃতি করে দেওয়া হয়েছে। এসব কনটেন্ট ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে প্রকাশ করেছে ভয়েস বাংলা।

 

তিন বিশ্লেষণ

১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে ‘এক আসিফের পেটে হাজার হাজার কোটি টাকা! কিছুই টের পেলেন না ড.ইউনূস?’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে হাজির হন মোস্তফা ফিরোজ নিজেই। বিশ্লেষণটি তিনি শুরু করেন এভাবে, “কি ভয়ঙ্কর খবর 11 হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার বিরুদ্ধে”। পুরো ভিডিও দেখুন এখানে

 

একইদিন রাত ১১টা ৪ মিনিটে ‘১৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগের দিনে আসিফকে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা’ শিরোনামে আরেকটি বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে হাজির হন মোস্তফা ফিরোজ।

 

একইদিন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে “১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আসিফের চটজলদি প্রতিবাদ। সার্কাসেরও সীমা থাকা উচিৎ” শিরোনামে ৩য় বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে হাজির হন মোস্তফা ফিরোজ।

 

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে গতকাল থেকে ভয়েস বাংলার ৬ পোস্ট

১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ‘দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে বিস্তারিত উল্লেখ করে পোস্ট করা হয়।

 

একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে বিস্তারিত উল্লেখ করে পোস্ট করা হয়।

 

একইদিন বিকেল ৫টা ২৩ মিনিটে ‘১১ হাজার কোটি টাকা পাচার আসিফের, টাকা আছে সুইস ব্যাংকেও: দুদক’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে বিস্তারিত উল্লেখ করে পোস্ট করা হয়।

 

১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটে ‘আসিফ আমলের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-পদোন্নতির নথিপত্র দুদকে’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে বিস্তারিত উল্লেখ করে পোস্ট করা হয়।

 

এছাড়া একইদিন ২টা ২৮ মিনিট ও ১টা ২ মিনিটে “আসিফ মাহমুদের অবস্থা এখন ‘চোরের মায়ের বড় গলা’” শিরোনামে রাশেদ খানের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দুটি পোস্ট করা হয় ভয়েস বাংলা পেজটিতে। দেখুন এখানেএখানে