মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবারও বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
দেশটির সরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা মিয়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল তাদের ফেসবুক পেজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির ব্যাংকক দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তাড়া-উ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১১ ও ১২ ডিসেম্বরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক দল পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ৬টি ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) সুইসাইড ড্রোন নিক্ষেপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বা বিমানবন্দরের রানওয়েরও ক্ষতি হয়নি।
মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, তাড়া-উ বিমানবন্দরে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। সেটিকে লক্ষ্য করেই ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রেসিডেন্ট হন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। তবে এরপরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরেনি।
সূত্র: রয়টার্স