পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে আফগান শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার না করার নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি খালিদ ইসহাক ৩০ জনের বেশি আফগান শিক্ষার্থীর করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
শুনানিতে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) দাবি করে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ভিসা নেই। তবে আদালত প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে তাদের চার বছর ধরে কীভাবে মেডিকেল শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের আগে তাদের বক্তব্য শোনারও প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
আদালত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার যুক্তিও নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কোনো বিষয় জড়িত নেই। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বা তাদের পরীক্ষার খাতা বাতিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে পিএমডিসি জানিয়েছিল, পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় জাতীয়তাভিত্তিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কাউন্সিলের যাচাইয়ে দেখা গেছে, পাকিস্তানে ২০০-এর বেশি আফগান শিক্ষার্থী চিকিৎসাশাস্ত্র পড়লেও বর্তমানে মাত্র ২২ জন পিএমডিসিতে নিবন্ধিত। তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং আটজন আগামী বছর স্নাতক হওয়ার কথা। পিএমডিসি জানায়, বাকি ১৭৬ শিক্ষার্থীর নথি যাচাই চলছে।
এক বিবৃতিতে পিএমঅ্যান্ডডিসি জানায়, আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের চলমান পর্যালোচনাটি মূলত নিয়মকানুন ও নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়; কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নয়।
কাউন্সিলের দাবি, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, কাগজপত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত অনুমতি না থাকলে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈধভাবে ভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সূত্র: জিও নিউজ