দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে গাম্বিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী বানজুলসহ বিভিন্ন শহরে সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তীব্র জনরোষের মুখে আগামী মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আদামা ব্যারো। খবর আলজাজিরার।
গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার বানজুলসহ আশপাশের শহরগুলোতে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ব্যারোর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ দমনে কয়েকটি এলাকায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। প্রেসিডেন্টের বাসভবন এবং দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ওয়াটার অ্যান্ড ইলেকট্রিসিটি করপোরেশনের (নাওয়েক) সদর দপ্তরের কাছেও বিক্ষোভ হয়েছে।
নাওয়েকের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ব্যারো বিদ্যুৎ সংকটকে ‘জরুরি অবস্থা’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন মেশিন স্থাপন করবে সরকার।
ব্যারো বলেন, ‘আমি জানি, বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরা বন্ধ হয়ে গেছে, শিশুরা অন্ধকারে পড়াশোনা করছে, মায়েরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিচ্ছেন। আর দিন-রাত প্রচণ্ড গরম অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে এখন গরমের মৌসুম চলছে। এর মধ্যেই পালাক্রমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও কোথাও একটানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও শিগগির শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ব্যারো।
তবে বিদ্যুৎ সংকটের কারণ নিয়ে নাওয়েকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্যালো জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। গত আগস্টে নাওয়েক এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে।
আগামী ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিদ্যুৎ সংকট ব্যারো সরকারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আদামা ব্যারো। এর কয়েক মাস আগে বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমেছে ক্ষুব্ধ জনগণ।
সূত্র : আলজাজিরা