টুইন টাওয়ার হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণসভাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দাবি উঠেছে নিউ ইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে ওই অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার। কিছু নিহতের পরিবার ও রিপাবলিকান সমর্থকদের পক্ষ থেকে ওঠে এমন দাবি। অবশ্য আছে ভিন্ন মতও।
প্রতি বছর গ্রাউন্ড জিরোতে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সাধারণত নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবার কয়েকজন ভিকটিম পরিবারের সদস্য অনলাইনে পিটিশন দিয়ে বলেছেন, মামদানি যেন না আসেন।
তাদের অভিযোগ, মেয়র ইসলামি উগ্রবাদের সমর্থক। যা তার উপস্থিতিকে নিহতদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা বলে মনে করছেন তারা।
এখন পর্যন্ত সেই পিটিশনে ৪২ হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। তাদের দাবি, স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার জন নিহতদের আত্মীয়।
রিপাবলিকান গভর্নর পদপ্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান বলেছেন, মামদানি যদি অনুষ্ঠানে আসেন, তাহলে উপস্থিত সবাই যেন তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকেন।
আর রিপাবলিকান সমর্থিত কিছু মিডিয়া এই বিষয়টি বাড়াবাড়ি করে প্রচার করছে বলে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন।
সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ৯/১১-এর স্মরণসভায় রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। মামদানিকে বাদ দেওয়ার ডাক সম্পূর্ণ অনুচিত।
জুলি মেনিন বলেছেন, এই দিনে রাজনীতি না হয়। শুধু শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে নিহতদের কয়েকজন আত্মীয় মামদানির উপস্থিতির পক্ষে মত দিয়েছেন। এলিজাবেথ মিলার তাদের মধ্যে একজন। তার বাবা ওই হামলায় মারা যান।
এলিজাবেথ মিলার বলেছেন, মেয়র মামদানি আমাদের প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চান। তার সেই সুযোগ পাওয়া উচিত।
মামদানি জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
৯/১১ হামলা হামলা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হয়। চরমপন্থী সংগঠন আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করে এই আত্মঘাতী হামলা চালায়।
এর মধ্যে দুটি বিমান নিউ ইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে, একটি বিমান ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে এবং চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আরও ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।