ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ধরন বদলাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের আনুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি এখন ইনস্টাগ্রামে তুলনামূলক সহজ-স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে ভিডিও ও রিল প্রকাশ করছেন তিনি।
সম্প্রতি মোদির ইনস্টাগ্রাম টাইমলাইনে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের রিল, সেলফি ভিডিও এবং তরুণদের ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করার মতো কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এক মাস আগেও যেখানে তার পোস্টগুলো বেশ পরিকল্পিত ও সতর্কভাবে সাজানো থাকত, সেখানে এখন বেশি স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে।
তরুণদের অনলাইন রাজনৈতিক সক্রিয়তার প্রভাবও বিজেপির এই কৌশল পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ঘিরে মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আন্দোলন রাজপথেও প্রভাব তৈরি করে। এমনকি এর জেরে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে। এতে অনলাইনভিত্তিক তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি বিজেপির নজরে আসে।ভারতের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন-জি গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠী হয়ে উঠতে পারে। তাই ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
তবে মোদির নতুন ভিডিওগুলো নিয়ে তরুণদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র।
অনেকেই এসব কনটেন্টকে রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে হাস্যরসাত্মক বা ‘ক্রিঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন। তার প্রথম সেলফি ভিডিও নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয়। পরে ভিডিওটি বিভিন্নভাবে সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেন ব্যবহারকারীরা।
শুধু মোদির অ্যাকাউন্ট নয়, বিজেপির সামাজিকমাধ্যম পেজগুলোতেও তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে মিম, স্ল্যাং ও পপ-কালচারের বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির পুরোনো ডিজিটাল কৌশল মূলত হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে দর্শকের প্রতিক্রিয়া, শেয়ার, মন্তব্য, পুনরায় দেখার প্রবণতা এবং ভিডিও দেখার সময়ের মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে এখানে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত কৌশল সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে।
তবে ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা অর্জন আর নির্বাচনে জয়ী হওয়া এক বিষয় নয়। বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিজস্ব ভোটব্যাংক এখনো নির্বাচনী সাফল্যের বড় ভিত্তি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তরুণদের কাছে পৌঁছাতে সেলফি ভিডিও ও ইনস্টাগ্রামভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ডিজিটাল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বিজেপির কিছুটা সময় লাগতে পারে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পডকাস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার সাক্ষাৎকারের মতো নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম দ্রুত গ্রহণ করেছে দলটি। তাই সময়ের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে।