Image description

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনায় হুমকিতে পড়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। ইসরায়েলি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি দখলদারত্ব অবিলম্বে বন্ধ করতে সতর্ক বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত E1 এলাকায় ১২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলের এই বসতি নির্মাণ পরিকল্পনাকে‘পূর্ণ প্রত্যাখ্যান’ জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

E1 (ই-১) কী?

ই-১ হলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি কৌশলগত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এটি পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত। এলাকাটি প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার। E1 এলাকায় ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি বসতি ও আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করে আসছে।

 

এখানে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩,৪০০টি আবাসন নির্মাণের কথা রয়েছে। E1 এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এ কারণে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে, E1-এ বড় আকারে বসতি নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই E1-কে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বসতি পরিকল্পনা নিয়ে ফিলিস্তিন, আরব ও মুসলিম দেশ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

 

যৌথ বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোর মন্ত্রীরা বলেন, এই প্রকল্প ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ সৃষ্টি করবে এবং বসতি সম্প্রসারণ ও ভূখণ্ড দখলের প্রক্রিয়া আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ (পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যকার সংযোগ) দুর্বল করবে। এটি ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সংলগ্ন ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এছাড়া, E1 প্রকল্পে ইসরায়েল নির্মাণকাজ শুরু করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক্ষেত্রে সংগঠনটি বাণিজ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দুই পশ্চিমা কূটনীতিকের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ইসরায়েল নির্মাণকাজ এগিয়ে নিলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আরব নিউজের তথ্য মতে, ইসরায়েলি এই পদক্ষেপে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিনিরা। ওই এলাকায় ইহুদি বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। এর ফলে একটি সংলগ্ন ও অবিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

গত বছর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, এই পরিকল্পনা একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে।

আরব ও মুসলিম দেশগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের সংযুক্তিকরণ ঠেকানো, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অবসানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় অঙ্গীকারকেও তারা চ্যালেঞ্জ করছে ইসরায়েলি পরিকল্পনা। এছাড়া পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি নির্মাণ নীতির পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি সেটলারদের চালানো সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

এমন অবস্থায় অবৈধ বসতি নির্মাণ কাজে যুক্ত থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সহায়তা-অর্থায়নকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা।