Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে হোটেল রয়েছে একাধিক। ছোট ছোট কামরা। প্রায় প্রত্যেক তলায় এক-একটা হোটেল বা গেস্ট হাউস। সেই ভবনের তিনতলার একটি হোটেলে প্রথম লাগে আগুন। তবে তীব্রতা বেশি ছিল না। কিন্তু ধোঁয়া বাড়তে থাকে ক্রমশই। ঢেকে যায় গোটা হোটেল। বের হওয়ার পথই খুঁজে পাচ্ছিলেন না অতিথিরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে ঘটা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানাচ্ছে, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এ নয় জনের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলের মালিক ও পলাতক কর্মীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

পুলিশ জানায়, ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৬০ জনকে। এছাড়া, অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এক শিশুসহ নয়জনকে। যাদের পরে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজনকে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন।

ভারতের অপর সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য মতে, আবাসিকদের একাংশের দাবি, আগুন লাগার পরও দেখা মেলেনি হোটেল কর্তৃপক্ষের কারও। ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিকরা চেষ্টা করেন হোটেল থেকে বের হওয়ার। কিন্তু কোন দিক দিয়ে বের হবেন সে পথ তারা খুঁজে পাননি ধোঁয়ার কারণে।

 

এক আবাসিকের ভাষ্য, ‘দমকলকর্মীরা না এলে আমরাও হয়তো বাঁচতে পারতাম না!’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, সাধারণত অন্য রাজ্য বা বাইরের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য যারা আসেন তারা থাকেন ওই ভবনের হোটেলগুলোতে। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে যখন সবাই ঘুমাচ্ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেকে হোটেলের ঘরে আটকে পড়েন। ওই বহুতলে ঢোকা এবং বের হওয়ার পথ একটাই। তাও সঙ্কীর্ণ।

আবাসিকদের দাবি, হোটেলে কোনো আপৎকালীন বের হওয়ার পথ ছিল না। কেউ কেউ ঢুকে পড়েন শৌচাগারে। সেখানকার জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। দমকলবাহিনী এসে উদ্ধার করে ওই ভবনে থাকা আবাসিকদের।

আবাসিকদের মধ্যে ছিলেন দুই বন্ধু। মঙ্গলবার রাতেই রামপুরহাট থেকে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ইজাজ আহমেদ নামে একজন জানান, তারা ওই ভবনের চারতলায় অন্য গেস্ট হাউসে ছিলেন। সাড়ে ১২টা নাগাদ খাওয়া সেরে ঘুমোতে যান। রাত ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ দুই মহিলার আর্তনাদ শুনে তাদের ঘুম ভাঙে। তারা দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়। তার কথায়, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল সেটি।’

নিউ মার্কেটের ওই ভবনের একদম উপরের তলায় এক পরিবার থাকত। তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই পরিবারের এক নারী জানান, তাদের যখন নিচে নামানো হয়, তখন আগুন নিভে গেছে। তার অভিযোগ, হোটেলের কর্মকর্তাদের বার বার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা লাগাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ নিয়ম মানেননি। প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।

মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগীদের অন্যতম গন্তব্যস্থল ভারত। কলকাতাসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চিকিৎসা নেন এসব রোগী। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভিসা জটিলতা ও কড়াকড়ির কারণে ভারতে যাওয়া কিছুটা কমেছিল।

সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে নয়াদিল্লি। এরপর ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরমধ্যে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।