Image description

ভারতের আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে আন্দোলনের সময় তিনি দুইবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি ও গোয়েন্দা তথ্যে পরিবর্তন আসায় শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে থেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তবে সরকার তার দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দেয়। কারণ মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের চেয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারকে তখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল।

 

গত ২০ জুলাই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তখনও তার প্রস্তাব নাকচ করে দেয় মোদি সরকার। বরং তাকে শিক্ষা খাতের সংস্কারে মূল দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

সরকারি সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, মোদি সরকারের ভেতরের পরিকল্পনা ছিল—একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ বিকল্প এবং এটি দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়ার শামিল। সমস্যা দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা সমাধানের ওপর বেশি মনোনীবেশ করেছিল মোদি সরকার।

 

তবে প্রথম থেকে অনড় থাকলেও পরবর্তীতে সরকারের মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সূত্রমতে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পরই এই বদল ঘটে। সংগঠনটি গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংস ‘ আন্দোলনের মতো আবারও বড় আকারের পদযাত্রার হুমকি দিয়েছিল।

 

এর আগে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় সরকার এমনিতেই চিন্তিত ছিল। তার ওপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, দেশবিরোধী আলামতগুলো এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

 

ডিজিটাল নজরদারিতে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ৪০০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট ভারতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে সক্রিয়ভাবে উসকে দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই অ্যাকাউন্টগুলোর বেশ কয়েকটি পূর্বে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও সক্রিয় ছিল। সে সময় সেগুলো ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিল।

 

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকায় অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা প্রায় ৪০০ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। এদের মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজন ২০ জুলাইয়ের সহিংসতা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

 

সিজেপির সঙ্গে চূড়ান্ত দফা আলোচনার আগে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে জাতীয় স্বার্থ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই যন্তর মন্তরের উত্তেজনা কমাতে ও বিক্ষোভ প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তা গ্রহণ করার পর ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।