অবৈধ ভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের পার্শ্ববর্তী কুসরা গ্রামে রবিবার হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটেলার)। মূলত শুক্রবার তাল গ্রামে গোলাগুলিতে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনার জের ধরে চালানো হয় এ হামলা।
রবিবারের হামলার সময় বসতি স্থাপনকারীরা আশাপাশের ভবনের দেয়ালে ‘বেনায়াহুর (নিহত ইসরায়েলি সেনা) প্রতিশোধ’ গ্রাফিতিও লিখেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
কুসরার গ্রাম পরিষদের প্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীরা তার গ্রামে নবনির্মিত একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে। এমনকি দেয়ালে হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখেছে, যার মধ্যে ‘ইহুদি প্রতিশোধ’ এবং তালের কাছে নিহত ইসরায়েলি সেনা বেনায়াহুর নাম ছিল।
তিনি রয়টার্সকে বললেন, ‘২০১১ সাল থেকে এই গ্রাম বারবার হামলার শিকার হয়েছে এবং যুদ্ধের পর থেকে এই হামলা আরও বেড়েছে।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুসরায় সেনা পাঠিয়েছে, যেখানে গ্রাফিতি ও আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তারা বলেছে, প্রমাণ সংগ্রহ করতে পুলিশ অফিসারদেরকেও পাঠানো হয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তারা ধর্মীয় স্থানে ক্ষতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তুলকারমের কাছে কৌর গ্রামের কাছাকাছি আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রাম পরিষদের সদস্য ফারিদ জিয়উসি জানান, তিন জন বসতি স্থাপনকারী মসজিদে আগুন দেয়, কিন্তু মসজিদে অবস্থানরত মুসল্লিরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেন।
ইহুদি বসতি স্থাপনকে অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘ অবৈধ বলে দাবি করলেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স