ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নির্মমতা’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নীরব থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং এ ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, ‘গতকালের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমতা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটে সরকারের জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষায়, ‘যদি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে সংসদের কাজ কী?’ রাহুল আরও বলেন, বিরোধী দল এ বিষয়টি চাপা পড়তে দেবে না। সংসদ ও রাজপথ-দুই জায়গাতেই শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরা হবে।
সোমবার হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে দিল্লিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সংসদে আলোচনার দাবি জানান। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, নির্ভুল ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শীর্ষনিউজ