Image description

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘মহাপাপ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ঠেকানো পুরো দেশের দায়িত্ব। একসঙ্গে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ নিয়ে আন্দোলনে নামা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে মিছিলের পরদিন এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব কথা বলেন মোদী। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন।

রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এমন একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ না থাকে।

এনডিএর বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুল পথে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু সঠিক পথে ফিরে আসা অনেক বেশি কঠিন। তাই তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সেটাই আমাদের কর্তব্য।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের উস্কানি দেবেন না, তাদের সঠিক পথ দেখান।

উত্তপ্ত দিল্লি

গতকাল রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

এদিন দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং চারজনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মিছিল ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। পরে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।

সরকারের সঙ্গে বৈঠক, অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

বিক্ষোভের পর সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয় সরকার। একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দপ্তরে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুজনের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গেও আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। তবে বৈঠকের পরও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি সিজেপি।

নড্ডা বলেন, আন্দোলনকারীদের অনুরোধে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনে গিয়ে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক হাতে লেখা চিঠিতে তিনি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ওয়াংচুক বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা দেখে তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংসদ অভিযানে নানা ধরনের উসকানি থাকলেও বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দিতে সরকার ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুত্রআনন্দবাজার, দ্য হিন্দু, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস