Image description

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ঘিরে শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। আজ শনিবার সকালে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুলডোজার এনে ভবন চত্বরে থাকা একটি বড় কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় জোর আলোচনা।

প্রশাসনের দাবি, পাঁচতলা ওই ভবনের একটি অংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ সকালে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিডিও, বিএলআরও এবং দমকল বিভাগের প্রতিনিধিরাও।

অভিযানের সময় ভবনের সামনে তৈরি করা নীল রঙের একটি বড় শেড বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছিল নিরাপত্তা বলয়ে।

ভারতীয় প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে গত ৩০ জুন সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মোতি মল্লিক এবং সুশান্ত মণ্ডল নামে তিনজনকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ১৫ জুলাই শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, নির্ধারিত দিনে তাদের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি।

জানা যায়, সুশান্ত নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই গোটা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নথি যাচাই এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবারের অভিযানের পর প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পাঁচতলা ভবনের অন্য কোনো অংশ ভাঙার পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার কার্যালয়ে এই প্রশাসনিক অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তীব্র। একই সঙ্গে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

আমতলার তৃণমূল নেতা জাকির হোসেনের ভাষ্য, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ থাকলে আদালত সিদ্ধান্ত নিক। কিন্তু বিরোধী নেতাদের ক্ষেত্রেই বারবার বুলডোজার রাজনীতি কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও সরকারকে দিতে হবে। আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এই অভিযান— এমনটাই মনে করছেন অনেক তৃণমূল সমর্থক। আইনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলতে পারে না।

তবে আমতলার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্কর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, ভবনটি বিধি লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছিল। তার কথায়, কাঠামোটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং প্রশাসন অবশেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।