ভারতের শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের একটি সার্ভার থেকে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংক্রান্ত প্রায় ১৯ হাজার নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে একটি র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ডার্ক ওয়েবে রিলায়েন্স গ্রুপের প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার নথি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কুদানকুলাম প্রকল্প-সংক্রান্ত প্রায় ১৯ হাজার নথির আকার প্রায় ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট। এসব নথি ১১ জুন থেকে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
যদিও এ বিষয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল) -এর দাবি, সর্বজনীন বলে দাবি করা সমস্ত তথ্য কেবলমাত্র নিয়মিত ‘ব্যালেন্স অফ প্ল্যান্ট’ জনসেবামূলক সুবিধাগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি কোনোভাবেই পারমাণবিক নিরাপত্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা বা তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তা সত্বেও ভারতে এ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কুদানকুলাম প্রকল্পের অবকাঠামোর নকশা, বিভিন্ন ইউনিটের কাঠামোগত তথ্য, সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং বিমা-সংক্রান্ত নথি রয়েছে।
তবে রয়টার্সের ধারণা, এসব নথি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম সরবরাহ করা পারমাণবিক চুল্লির মূল প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
রিলায়েন্স ও ইয়োটার বক্তব্য
রিলায়েন্স জানিয়েছে, তাদের তথ্য একটি তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) ডেটা সার্ভিসের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ওই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইয়োটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৯ মে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকানাধীন ও পরিচালিত একটি সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি বন্ধ করে সম্ভাব্য র্যানসমওয়্যার আক্রমণ প্রতিহত করা হয়।
ইয়োটা আরও জানায়, জুনের শেষ দিকে তারা রিলায়েন্সকে সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি জানায় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে।
ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলেও রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
কুদানকুলাম প্রকল্পে রিলায়েন্সের ভূমিকা
রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২০১৮ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি পায়। ইউনিট দুটি এখনও নির্মাণাধীন এবং ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। চালু হলে এখান থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
এনপিসিআইএলের ব্যাখ্যা
এনপিসিআইএল জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো কেবল 'ব্যালেন্স অব প্ল্যান্ট'-সংক্রান্ত সাধারণ অবকাঠামো ও জনসেবামূলক সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব তথ্যের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা, চুল্লির পরিচালনা ব্যবস্থা বা অন্য কোনো সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংস্থাটি আরও জানায়, রিলায়েন্সকে দেওয়া ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) চুক্তির আওতায় কেবল সাধারণ সেবা অবকাঠামোর প্রকৌশল, সরঞ্জাম সংগ্রহ, সরবরাহ ও নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উদ্বেগ প্রকাশ
পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ বলেছে, ডার্ক ওয়েবে এ ধরনের অবকাঠামোগত তথ্য প্রকাশিত হওয়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংগঠনটির দাবি, এ ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা দক্ষিণ ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।