Image description

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে সিরিয়া। দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক বা মদদদাতা’র তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার ওপর মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো উঠে যাবে এবং যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে দেশটির নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সুগম হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে সিরিয়ার জনগণ নতুন করে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে এবং তাদের জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া- যা নিজের ভেতর এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করবে- তা শুধু এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।’

মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা দেশটির আইনসভাকে (কংগ্রেস) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৪৫ দিনের একটি প্রাক-বিজ্ঞপ্তি বা ‘প্রি-নোটিফিকেশন’ সময়কাল পার হওয়ার পর সিরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কালো তালিকা থেকে মুক্ত করা হবে।

সিরিয়ার ওপর থেকে এই শাস্তিমূলক তকমা তুলে নেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই একটি যৌথ প্রচেষ্টা ছিল। মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়াকে এই শাস্তিমূলক তালিকায় রাখার আর কোনো যৌক্তিক কারণ অবশিষ্ট নেই।

এর আগে, আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকেই ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা ও কালো তালিকা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট আভাস দিয়েছিলেন। অবশেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন