Image description

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামী ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এত দিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

 

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তা হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

 

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশ ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।