ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যে। এবার কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে পালটা জবাব দিয়েছে কংগ্রেসও।
রোববার তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে দলের বুথ সভাপতিদের এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতীন নবীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র এবং তোষণনীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির সমার্থক হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলটির নেতৃত্বের মানসিকতা ভারতীয় নয়, বরং ইতালীয়। তার ভাষায়, এমন মানসিকতার নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না। বিজেপি সভাপতির বক্তব্যে সোনিয়া গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্তব্যটি কংগ্রেসের সাবেক সভাপতিকেই উদ্দেশ করে করা হয়েছে। ইতালিতে জন্ম নেওয়া সোনিয়া গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। বক্তব্যে কংগ্রেসের পাশাপাশি তেলেঙ্গানার সাবেক ক্ষমতাসীন দল ভারত রাষ্ট্র সমিতিকেও লক্ষ্য করেন নীতীন নবীন।
তিনি বলেন, বিজেপি পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলটি জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন এবং সবার ক্ষমতায়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটানোই বিজেপির লক্ষ্য বলেও তিনি দাবি করেন। বিজেপির এই বক্তব্যের পরই পালটা প্রতিক্রিয়া জানায় কংগ্রেস। দলটির নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক আক্রমণের বদলে ক্ষমতাসীন দলকে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলেন, বিজেপি যদি সত্যিই কাজের মূল্যায়ন করতে চায়, তাহলে বিধানসভা এবং বিধান পরিষদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। সেখানে ভারত রাষ্ট্র সমিতির দশ বছরের শাসন, কেন্দ্রে বিজেপির বারো বছরের শাসন এবং কংগ্রেস সরকারের আড়াই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে।
রেবন্ত রেড্ডির দাবি, রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তে জনগণের সামনে বাস্তব উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন এবং জাতীয় রাজনীতির প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বক্তব্যের লড়াই আরও তীব্র হতে পারে। পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি, জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়নের প্রশ্ন আগামী দিনের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এই পালটাপালটি বক্তব্য ভারতের নির্বাচনি রাজনীতির পরিচিত চিত্র হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনের বাস্তব প্রশ্নই বেশি গুরুত্ব পাবে।