Image description

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে রাজ্যে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। বিধানসভা নির্বাচনি ইশতেহারে আগেই জানিয়েছিল বিজেপি। নির্বাচনি প্রচারেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেছিলেন বিজেপি জয়লাভ করলে ‘এক নিশান’, ‘এক বিধান’, ‘এক সংবিধান’-এর পথে চলবে পশ্চিমবঙ্গ। যেমন কথা তেমন কাজ।

চলতি বিধানসভার বাজেট অধিবেশনেই সোমবার (২৯ জুন) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিন্ন দেওয়ানি বিধিসংক্রান্ত বিল পেশ করতে চলেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সদনে সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী ও রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ভাষণ দেওয়ার সময় লাভ জিহাদ ও ধর্মান্তকরণ নিয়ে বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গে যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হচ্ছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।

 

শুভেন্দু বলেন, ভরসা রাখবেন, একটু সময় দেবেন। ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ, আর বলপূর্বক ধর্মপরিবর্তন করার বিরুদ্ধে অর্থাৎ ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে কঠোর এবং কঠিন আইন এই সরকার আনবে।

 

এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাংলায় হবে। একটি প্রসিডিওর আছে। আমরা বিধানসভায় সবটা জানাব। একটি কমিটি তৈরি করা হবে। কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে সেই কমিটি হবে।

 

বর্তমানে ভারতের মধ্যে আসাম, উত্তরাখণ্ড ও গোয়ায় এই বিল কার্যকর করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাজ্যে এই বিল পাস হলেও পশ্চিমবঙ্গ হবে চতুর্থ রাজ্য, যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে।

 

বিধানসভা সূত্রে খবর, আগামী সোমবার (২৯ জুন) মোট পাঁচটি বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে বিলটি পেশ করার কথা জানানো হয়েছে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন দেশের সব সম্প্রদায়ের জন্য এক ও অভিন্ন আইনের কথা বলে। এটি চালু হলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, লিভ-ইন রিলেশন ও দত্তকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আইন সবার জন্য একই হবে বা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই আইনে ছেলে ও মেয়েদের বিয়ের বয়স একই হবে। ধর্মীয় আইনের অবসান ঘটিয়ে তিন তালাক, বহুবিবাহ ও হালালা বিয়ে একেবারে নিষিদ্ধ হবে।

 

এই আইনের সবচেয়ে বড় সমাজতাত্ত্বিক দিক হলো লিঙ্গভিত্তিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা। বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইনে নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে নানা অসমতা লক্ষ্য করা যায়, বিশেষত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার এবং বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ পাওয়ার ক্ষেত্রে। ইউসিসি বলবৎ হলে সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে নারীরা আইনি ক্ষেত্রে সমমর্যাদা ও অধিকারের সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় আইন মেনেই পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত বিলেও পাহাড় ও জঙ্গলমহলের কিছু বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিল পেশের সময়ই স্পষ্ট হবে। এই বিল বিধানসভায় পেশ করার পরে আলোচনার সময় দেওয়া হবে।

 

মুখ্যমন্ত্রীসহ বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধী দলের বিধায়করাও এই আলোচনা পর্বে অংশ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই, সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যে এই বিল নিয়ে আসা নতুন প্রশাসনের প্রবল তৎপরতারই ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশাপাশি সোমবার বিধানসভায় আরও দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া বিল পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মূলত সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, দাঙ্গা এবং পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা রুখতে এই বিলগুলো আনা হচ্ছে।