Image description

‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দু:খ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?’ কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতা আর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। দুই দিন আগেই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র আনুষ্ঠানিক ভাবে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন হাউস অফ কমন্সে। তাকেই ভাবা হচ্ছে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সহজ ভাবা হলেও কাদা যুক্ত পিচ্ছিল পথই অপেক্ষা করছে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্য।

লেবার দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অন্তত দুই জন লেবার এমপি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসতে পারেন অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে। এদের একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স। সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা না বলেও তিনি তা উড়িয়েও দেননি। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এমপি জোন্সকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছেন। জোন্সের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে কোনো প্রতিযোগিতায় নামার কথা ভাবছেন না, তবে তিনি বার্নহামের অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আশ্বাস চাইবেন, কারণ বাজারে অথনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

আগামী সপ্তাহে বার্নহাম তার অর্থনৈতিক নীতির মূল দিকগুলো তুলে ধরতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। যার মধ্যে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য বর্তমান চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিও থাকবে। তখনই হয়তো বোঝা যাবে ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক কিনা।

অন্যজন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস। জোন্স মুখে না বললেও কার্নস কিছুটা হলেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন নির্বাচনের ব্যাপারে। আইটিভি-র ‘পেস্টন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমি কোনোভাবেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নই। আমাদের সেই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যেখানে কৌশল নিয়ে কথা বলা হয় এবং রণনীতি নিয়ে ভাবা হয়। আমি আসলে এমন বড় ও বস্তুনিষ্ঠ ফলাফল খুঁজছি, যা আমরা ২০২৯ এবং ২০৩৪/৩৫ সালের মধ্যে অর্জন করতে চাই।’

লেবার পার্টির বর্তমান নেতা কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অনৈক্য একরকম ওপেন সিক্রেট। এ বছরের জানুয়ারিতে স্টারমার বার্নহামকে গোরটন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেয় যাতে, যাতে তিনি সংসদে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে না পারেন। এনিয়ে বার্নহ্যামও প্রকাশ্যে স্টারমারের সমালোচনা করেন।

এমপির পদ গ্রহণকালে ২০০ জন লেবার এমপির সাথে হাস্যোজ্জ্বল সেলফি তোলা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কম করে হলেও ৮০ জন এমপির সমর্থন আদায় করে নিতে হবে।

এসব টপকে গেলেও সামনে থাকছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে প্রথমেই থাকছে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতের মোট ঋণ প্রায় ২.৯১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড। যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৩.৮ শতাংশের সমান। সঙ্গে থাকছে বেকারত্ব, স্বাস্থ্য খাতে ধীরে চলা নীতি, লেবার এমপিদের মধ্যে অনৈক্য উচ্চ আয়কর এবং অভিবাসন সমস্যা। অবশ্য অভিবাসন নীতিতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদের আশীর্বাদ পাবেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি বার্নহামের প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন সীমিত করার তার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এখন সময়ই বলে দেবে কতটা সফল ভাবে উতরে যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নাকি ব্যর্থতার গ্লানি আষ্টেপিষ্টে ধরবে তাকেও।