Image description

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরকারি সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। খবর আল জাজিরার।

কূটনৈতিক আলোচনার পরপরই পাকিস্তান সফর

 
 

সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ইরান তার নতুন কূটনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শক্তিশালী করতে চায়।

 

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক রেজা খাঞ্জাদেহ বলেন, ‘পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ যাচ্ছেন কারণ তিনি এই অস্থায়ী চুক্তিকে রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপ দিতে চান। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সফরের প্রয়োজনীয়তা পাকিস্তানের চেয়ে ইরানেরই বেশি।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ

সফরকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি দেশটির সংসদীয় ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

দুই দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

সংঘাত থেকে সহযোগিতার সম্পর্ক

এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের পর তিনি প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে পাকিস্তানেই গিয়েছিলেন।

সেই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১২টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং বার্ষিক বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তবে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় এমন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরান পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা অভিযান চালায়। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার তেহরান সফর করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদ এখন কেবল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

প্রাক্তন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসিফ দুরানি বলেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে না গিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম মানতে প্রস্তুত। তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনার ফলে ইরান সাময়িকভাবে তেল রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে, যা বড় একটি স্বস্তি।

কূটনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই সফর পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে এটি ইরানকে আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে তার কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর ইরানের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক বার্তা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।