পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মাথা ও পিঠ লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কালীঘাটে মমতার বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার চন্দন ও রবি নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে কালীঘাট থানা পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সোমবার রাতেই কুণাল ঘোষ নিজে কালীঘাট থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ডিম ছোড়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত চন্দন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কুণাল ঘোষ বহু লোককে অত্যাচার করেছিলেন, সেই কারণেই তাকে ডিম ছুড়েছি।”
সোমবার বিকেলে কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক ডাকেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই হরিশ চ্যাটার্জি গলির ভেতর থেকে হাতে বেশ কয়েকটি পচা ডিম নিয়ে এক যুবক বেরিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। সে সময় তিনি মাথা নিচু করলে ডিম তার মাথায় ও পিঠে লাগে। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন।
এই হামলার পর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এক সময় দেড়শো পুলিশ আমাকে সামলাতে পারতো না। দু’টো কুকুর-বেড়াল আমার কী করবে? আমি ওখান থেকেই আবার যাব। মারার হলে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সামনেই মারুক, আপনারা ছবি তুলুন। বোম মারলে মারুক, পাথর মারলে মারুক—আমি ওই রাস্তা দিয়েই যাব।”
এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হামলার পেছনে সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, “বিজেপির কয়েকটা গুন্ডা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই কাজ করেছে। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির গুন্ডারা এভাবে সাংবাদিকদের সামনে ডিম ছুড়ে মারছে।”
এ সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “এতগুলো পুলিশ কুকুরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে বিজেপির গুন্ডা—এই নিয়ে আমরা পড়ে আছি। পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রকে কোন জায়গায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে! এসব করে সবাইকে ভয় দেখানো হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তবে খোদ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে একজন হাই-প্রোফাইল বিধায়কের ওপর এমন হামলায় রাজ্যের ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।
শীর্ষনিউজ/