Image description

ফ্যাশন দুনিয়ায় অদ্ভুত ও ‘উদ্ভট’ ডিজাইনের অভাব নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একটি বুটিক এবার এমন এক ডিজাইন বাজারে এনেছে, যা অনেকের কাছে শিল্পকর্ম, আবার অনেকের কাছেই অস্বস্তির চূড়ান্ত সীমা।

র‍্যাট অডিটি গিজার্ড নামের অস্ট্রেলিয়ান একটি অদ্ভুত ও এক্সপেরিমেন্টাল ফ্যাশন ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ট্যাক্সিডার্মি বা সংরক্ষিত মৃত প্রাণী ব্যবহার করে নানান ‘অদ্ভুত আর্ট’ তৈরি করে আসছে। তবে গত বছরের অক্টোবর মাসে ব্র্যান্ডটির প্রধান ডিজাইনার এমন এক ডিজাইন সামনে আনেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ট্যাক্সিডার্মি করা ইঁদুর সেলাই করা অন্তর্বাসে ব্যবহার করা হয়।

এই বিশেষ পণ্যের নাম দেওয়া হয় ‘লিঙ্গার‍্যাট’। ইনস্টাগ্রামে প্রথম ছবি প্রকাশের পরই এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। শুরু হয় বিস্ময়, বিতর্ক এবং তীব্র কৌতূহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পণ্য নাকি শিল্প? প্রশ্নের মুখে ফ্যাশন
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি ডিজিটালি সম্পাদিত কিছু অথবা মার্কেটিং স্টান্ট। কিন্তু পরে নিশ্চিত হওয়া যায়- পণ্যটি বাস্তব এবং বিক্রির জন্যও উন্মুক্ত। একজোড়া ‘লিঙ্গার‍্যাট’ অন্তর্বাসের দাম রাখা হয়েছে প্রায় ১৯০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৩৭ মার্কিন ডলার)।

র‍্যাট অডিটি গিজার্ড নামের অস্ট্রেলিয়ান একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই মৃত প্রাণী ব্যবহার করে ‘অদ্ভুত আর্ট’ তৈরি করে আসছে।

তবে ব্র্যান্ডটি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি অন্তর্বাস নয়। বরং এটি একটি ‘আর্ট পিস’। যার মূল উদ্দেশ্য দর্শকদের নাড়া দেওয়া এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া উসকে দেওয়া।
এই কাজটি মূলত আধুনিক “শক আর্ট” প্রবণতারই অংশ, যেখানে শিল্পীরা দর্শকের আরামদায়ক ধারণাকে ভেঙে দিতে চান। ফ্যাশন, শরীর এবং মৃত্যুর মধ্যকার সীমারেখা এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শক অস্বস্তি, কৌতূহল এবং চিন্তার মধ্যে পড়ে যান। অনেকে এটিকে ভোক্তা সংস্কৃতির বাড়াবাড়ি হিসেবেও দেখছেন।

বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া

এই ব্যতিক্রমী ডিজাইন প্রকাশের পর থেকেই অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ একে সাহসী শিল্পচর্চা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে অস্বস্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করছেন। প্রাণীর দেহ ব্যবহার করে ফ্যাশন তৈরির নৈতিকতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

বিতর্ক যতই থাকুক, ‘লিঙ্গার‍্যাট’ ইতোমধ্যেই ফ্যাশন ও আধুনিক আর্ট জগতে এক অদ্ভুত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এটি একাধারে পোশাক, শিল্প, এবং নতুন ধরনের ফ্যাশন। তবে ‘লিঙ্গার‍্যাট’ চিরচেনা সেই প্রশ্নটি নতুন করে ছুঁড়ে দিয়েছে। সেটি  হলো- শিল্পের সীমা আসলে কোথায় শেষ হয়?