Image description

দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে।

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৯ মে) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি লাই চিংয়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও কাজ করব।

 

তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি।

 

ট্রাম্প একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বেইজিং সফরে দুই নেতার বৈঠকের পরই তাইওয়ান ইস্যু নতুন করে সামনে আসে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে চীন।

চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জোর দিচ্ছেন।

১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হয়।

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং। ট্রাম্প তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটির দিকেই নজর রাখছে চীন।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক রীতিভঙ্গ করেছিলেন। সে সময়ও বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে না। কিন্তু বেইজিং থেকে ফেরার পথে বিমানে সেই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮০-এর দশক এখনও অনেক দূরের পথ।

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং এই ঘটনা বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়।

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায় তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

অনেক তাইওয়ানি নিজেদেরকে একটি পৃথক জাতির অংশ বলে মনে করেন। যদিও বেশিরভাগই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না বা তার সাথে একীভূতও হবে না।

সূত্র : বিবিসি