ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখিয়ে কার্টুন প্রকাশ করেছে উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়ের একটি সংবাদপত্র। একইসঙ্গে ওই কার্টুনে মোদিকে ‘ধূর্ত ও বিরক্তিকর মানুষ’ হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক ভারতীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনেকেই মোদির এই ব্যঙ্গচিত্রকে ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও বর্ণবাদী উপস্থাপনা বলে সমালোচনা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখিয়ে কার্টুন প্রকাশ করেছে নরওয়ের একটি সংবাদপত্র। বুধবার (২০ মে) নরওয়ের দৈনিক আফতেনপোস্তেনে প্রকাশিত ওই কার্টুনে মোদিকে একটি সাপের মতো দেখতে জ্বালানি পাম্পের পাইপ হাতে দেখা যায়।
কার্টুনটির সঙ্গে প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধের শিরোনাম ছিল— ‘এ ক্যানিং অ্যান্ড স্লাইটলি ডিস্টার্বিং ম্যান’ বা ‘ধূর্ত এবং কিছুটা বিরক্তিকর একজন মানুষ’। এই কার্টুন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সমালোচকদের অভিযোগ, পত্রিকাটি ‘ঔপনিবেশিক যুগের পুরোনো ধ্যানধারণার আশ্রয়’ নিয়েছে এবং ‘ভারতের বিকৃত চিত্র’ তুলে ধরেছে। মূলত বিতর্ক আরও বেড়ে গেছে নরওয়েতে মোদির সরকারি সফরকে ঘিরে চলা আলোচনার কারণে।
সফরের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ তোলেন, ভারতে মোদি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে চলেন। ওই ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়। অনেক ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মোদির এই কার্টুনকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি সেই পুরোনো ঔপনিবেশিক ধারণাকেই আবার সামনে এনেছে, যেখানে ভারতকে ‘সাপ আর সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, পশ্চিমা গণমাধ্যমের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতীক ব্যবহার করে ভারত ও ভারতীয়দের চিত্র তুলে ধরেছে। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটিকে বিদেশবিদ্বেষী ও পুরোনো ধ্যানধারণা হিসেবে সমালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে স্পেনের সংবাদপত্র লা ভানগুয়ার্দিয়াও ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদনে সাপুড়ের ছবি ব্যবহার করেছিল।
এদিকে মোদির এই ব্যঙ্গচিত্র ছাপানোর বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বর্তমানে নরওয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে সর্বশেষ সূচকে ভারতের অবস্থান আরও নিচে নেমে ১৫৪ থেকে নেমে ১৫৭ হয়েছে।