Image description

ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে, যা ‘চিকেন নেক করিডোর’ নামে পরিচিত, থমকে থাকা সড়ক ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পথ খুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই অঞ্চলের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক অংশ দিল্লি বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের একমাত্র স্থলসংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত। এর পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং কাছেই চীনের চুম্বি উপত্যকা অবস্থিত। ফলে অঞ্চলটিকে ভারতের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুখ্য সচিবের কার্যালয় থেকে নতুন অনুমোদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এখন বিলম্বিত নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করতে পারবে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে চলা জটিলতা ও বিলম্বের অবসান ঘটলো। আগে পশ্চিমবঙ্গের গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা মহাসড়ক অংশগুলো এখন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (এনএইচআইডিসিএল) অধীনে যাবে।

নতুন ব্যবস্থায় এনএইচএআই এনএইচ-৩১, এনএইচ-৩৩ ও এনএইচ-৩১২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে সেভক-করোনেশন ব্রিজ অংশ, হাসিমারা-জয়গাঁও রুট এবং চ্যাংড়াবান্ধা করিডোরের মতো কৌশলগত সড়কগুলো তদারকি করবে এনএইচআইডিসিএল।

কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ উন্নত হবে।

মুখ্য সচিবের দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সাতটি সড়ক অংশ সিকিম, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে এবং দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে। এছাড়া মালদা ও মুর্শিদাবাদ হয়ে বিহার-বাংলা করিডোরের যোগাযোগ উন্নত হবে। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা হয়ে ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে আরও বড় একটি রেলপথ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্যমান ডাবল রেললাইনকে ছয় লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে টিন মাইল হাট ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেল করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভূগর্ভস্থ অংশটি ভূপৃষ্ঠের ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে নির্মাণ করা হবে, যাতে সামরিক ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি করিডোরকে ভূরাজনৈতিক চাপের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। কারণ এই সরু করিডোরে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।