Image description

 আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে গোপনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি নিজেই।

তবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

স্মোট্রিচ এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
আইসিসিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন সাধারণত গোপন রাখা হয় এবং তা কার্যকর করতে বিচারকদের অনুমোদন লাগে। আদালত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সম্প্রতি পাঁচজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন পরোয়ানা জারির খবরও অস্বীকার করেছে তারা।

এ ঘটনার পর স্মোট্রিচ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বেদুইন গ্রাম খান আল-আহমার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। ২০১৮ সালে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত খান আল-আহমার উচ্ছেদের অনুমতি দিলেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। জাতিসংঘ, আইসিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তখন এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্মোট্রিচ বলেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছে, আইসিসির প্রসিকিউটর আমার বিরুদ্ধে গোপনে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসরায়েল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তাই পক্ষপাতদুষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্যায্য নির্দেশ আমরা মানব না।’

তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা যুদ্ধ শুরু করেছে, আর এর জবাবও যুদ্ধ দিয়েই পাবে।’ একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই খান আল-আহমার খালি করার নির্দেশে সই করবেন।

অন্যদিকে আইসিসির প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে তারা মন্তব্য করতে পারে না। কারণ এ ধরনের আবেদন গোপন রাখা হয়, যদি না বিচারকরা তা প্রকাশের অনুমতি দেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মন্ত্রী মুয়াইয়াদ শাবান বলেন, খান আল-আহমার উচ্ছেদের নির্দেশ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি নীতির অংশ। তার দাবি, এটি পূর্ব জেরুজালেম ঘিরে এমন একটি পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে আলাদা করে ফেলা হবে। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ও সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। এরপর সেখানে প্রায় ১৬০টি ইসরায়েলি বসতি গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করেন। একই এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।

গত জুনে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি পশ্চিমা দেশ স্মোট্রিচ ও আরেক কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে ইসরায়েল সরকার এ পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেয়।

এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। যদিও ইসরায়েল সরকার ও সংশ্লিষ্ট নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

একই বছর হামাসের তিন নেতা, ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ ও ইসমাইল হানিয়ার বিরুদ্ধেও আইসিসি পরোয়ানা চেয়েছিল। তবে পরোয়ানা জারির আগেই সিনওয়ার ও হানিয়া নিহত হন। পরে হামাস জানায়, মোহাম্মদ দেইফও নিহত হয়েছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা বাতিল করা হয়।

আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে পারে। যদিও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার মানে না। তবে ২০২১ সালে আইসিসি রায় দেয়, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা অঞ্চলে তাদের বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে।