Image description

যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ খারিজের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

সোমবার (১৮ মে) ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদানির একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের যে অভিযোগ ছিল, সেটিরও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

গৌতম আদানির মামলার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, আদানির আইনজীবী কাকতালীয়ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ব্যক্তিগত আইনজীবী। গত মাসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার মক্কেল (আদানি) যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। কিন্তু এই মামলাগুলো চলমান থাকায় তিনি সেই বিনিয়োগ করতে পারছিলেন না। মূলত এই বিনিয়োগের পথ পরিষ্কার করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আদানির বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়।

ফোর্বস সাময়িকীর সর্বশেষ তথ্যমতে, আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গৌতম আদানির আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এর আগে বাইডেনের আমলে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’-কে ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পাইয়ে দিতে তিনি ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, আদানি এবং তার সহযোগীরা ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নিজেদের এই দুর্নীতির তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। যদিও আদানি গ্রুপ শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে সোমবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আদানি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান ‘আদানি এন্টারপ্রাইজেস’-এর বিরুদ্ধে ইরানসংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের যে অভিযোগ ছিল, তা ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের বিনিময়ে সমঝোতা করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, আদানি এন্টারপ্রাইজেস দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চালান কিনেছিল। ওই ব্যবসায়ী কাগজপত্রে সেগুলো ওমান ও ইরাকের গ্যাস বলে দাবি করলেও, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর আসল উৎস ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকবলিত দেশ ইরান।

এই ঘটনার পর আদানি এন্টারপ্রাইজেস এখন ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কমপ্লায়েন্স লিডারশিপ পদ তৈরি করেছে।

পাশাপাশি ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথিত এই পরিকল্পনা নিয়ে আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়ের করা দেওয়ানি মামলাটিও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গত সপ্তাহের আদালতের নথিতে দেখা গেছে। তবে এই দেওয়ানি মামলার সমঝোতাটি পুরোপুরি কার্যকর হতে এখন শুধু আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা।