ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিলে কূটনৈতিক সমাধানেই সন্তুষ্ট থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, আগামী দিনের জন্য নির্ধারিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হলে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে।
তার মতে, সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা।
এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখন ইরানকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি। যদিও আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত ছিল তার।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের সেই অবস্থানকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মোহসেন রেজাই। তার দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের শক্ত অবস্থানের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তা আহমদ নাফিসি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের আকাশে শত্রুপক্ষের মাইক্রো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সক্রিয় করা হয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি এখন রয়েছে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।
ইরান পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সম্ভাব্য কর আরোপের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তেলের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ২৪ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৬৬ ডলারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ১১২ দশমিক ১০ ডলার।
এ বিষয়ে এ ই ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ টম সিওমাডেস মন্তব্য করেন, ইরান পরিস্থিতি প্রতিদিনই বাজারকে প্রভাবিত করছে এবং পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।